চীন প্রস্তুত হচ্ছে আমেরিকাকে রুখতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আমেরিকায় বাইডেন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধান চীন নিয়ে সংস্থাটির অবস্থান খোলাখুলি প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে স্পর্শকাতর বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চীনকে গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি’হিসাবে দেখছেন তিনি। তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি চুরি করে চীন তাদের ক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে এবং বিশ্ব বাজার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে হটিয়ে দিচ্ছে।

চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাতের জন্য তৈরি হচ্ছে। চীনের এখন লক্ষ্য অর্থনীতি সামরিক এবং প্রযুক্তিকে বিশ্বে তাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা। তবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চীন বলেছে র‌্যাটক্লিফের কথা ‘মিথ্যার ফুলঝুরি’। শুক্রবার বেইজিংয়ে তাদের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেন ‘আমরা আশা করি মার্কিন রাজনীতিকরা সত্যকে মর্যাদা দেবেন, ভুয়া সংবাদ তৈরি এবং বিক্রি বন্ধ করবেন, না হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা আরো প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান জন র‌্যাটক্লিফ তার লেখায় বলেন, আমেরিকার প্রধান শত্রু এখন রাশিয়া নয়, বরঞ্চ চীন। চীন যে অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তিতে’ লিপ্ত রয়েছে তার লক্ষ্যই হচ্ছে ‘চুরি, নকল এবং হুবহু পণ্য তৈরি। তিনি বলেন, প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মেধা-স্বত্ব চুরি হচ্ছে। প্রযুক্তি চুরির জন্যে এফবিআই গোয়েন্দাদের হাতে অনেক চীনা নাগরিক আটক হচ্ছেন।সামরিক শক্তি বাড়াতে চীন কতটা মরিয়া তা বলতে গিয়ে র‌্যাটক্লিফ দাবি করেন যে আমেরিকার কাছে গোয়েন্দা এমন তথ্য রয়েছে যে চীন কৃত্রিমভাবে তাদের সৈন্যদের শারীরিক এবং মানসিক ক্ষমতা বাড়াতে সৈন্যদের ওপর সরাসরি পরীক্ষা চালাচ্ছে।

এছাড়া চীনারা যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেস অর্থাৎ পার্লামেন্ট সদস্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কংগ্রেস সদস্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারে চীনের চেষ্টা ‘রাশিয়ার চেয়ে ৬ গুণ এবং ইরানের চেয়ে ১২ গুণ বেশি।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত কয়েক বছর ধরে নানা ক্ষেত্রে চীনকে কোণঠাসা করতে একের পর এক ব্যবস্থা নিয়েছেন। চীনও অবশ্য পাল্টা জবাব দিয়েছে। দুই দেশই একে অন্যের আমদানি পণ্যের ওপর শত শত কোটি ডলারের বাড়তি শুল্ক বসিয়েছে। বেশ কতগুলো চীনা প্রযুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা এশিয়া সোসাইটির মার্কিন-চীন সেন্টারের পরিচালক অরভিল শেল সম্প্রতি বিজনেস ইনসাইডার পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা একটি শীতল যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে।’