শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলায় সাবেক এমপিসহ ৫০ জনের কারাদন্ড

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জন বিএনপি নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

এদের মধ্যে হাবিবসহ তিনজনের ১০ বছর ও সাবেক যুবদল নেতা আব্দুল কাদের বাচ্চুসহ তিন জনের ৯ বছর ও বাকি আসামিদের সর্বনিম্ন ৪ বছর থেকে বিভিন্ন মেয়াাদে সাজা দেয়া হয়। বৃহষ্পতিবার সাতক্ষীরার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হুমায়ুন কবির এ রায় ঘোষণা করেন।

এরআগে এ মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক এমপি হাবিবসহ ৩৪ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতে রায় ঘোষণা করা হয়। বাকী ১৬ আসামি পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জী, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল শাহীন মৃধা ও সাতক্ষীরার পিপি এডভোকেট আব্দুল লতিফ প্রমুখ।
অপরদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন এডভোকেট শাহানারা আক্তার বকুল, এডভোকেট আব্দুল মজিদ, এডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু ও এডভোকেট তোজাম্মেল হোসেন প্রমূখ।

কারাগারে থাকা আসামীরা হলেন সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আশরাফ হোসেন, সাবেক পৌর মেয়র আক্তারুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, শেখ তামিম আজাদ মেরিন, আব্দুর রকিব মোল¬্যা, আব্দুল মজিদ, হাসান আলী, ময়না, আব্দুস সাত্তার, তোফাজ্জেল হোসেন সেন্টু, জহুরুল ইসলাম, গোলাম রসুল, অ্যাড. আব্দুস সাত্তার, আব্দুস সামাদ, আলতাফ হোসেন, শাহাবুদ্দিন, সাহেব আলী, সিরাজুল ইসলাম, রকিব, ট্রলি শহীদুল, মনিরুল ইসলাম, শেখ কামরুল ইসলাম, ইয়াছিন আলী, শেলী, শাহিনুর রহমান, দিদার মোড়ল, সোহাগ হোসেন, মাহাফুজুর মোল¬া, আব্দুল গফফার গাজী, রিঙ্কু, এডভোকেট আব্দুস সামাদ ও টাইগার খোকন ওরফে বড় খোকন।

পলাতক আসামিরা হলেন সাবেক যুবদল নেতা আব্দুল কাদের বাচ্চু, মফিজুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, খালেদ মঞ্জুর রোমেল, আরিফুর রহমান, রিপন, ইয়াছিন আলী, রবিউল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, আব্দুর রব, সঞ্জু , নাজমুল হোসেন, জাবিদ রায়হান লাকী, কণক ও মাহাফুজুর রহমান।
২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরায় মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে হাসপাতালে দেখে মাগুরা ফিরে যাবার পথে কলারোয়ায় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন। এতে শেখ হাসিনা অক্ষত থাকলেও তার সফরসঙ্গী ফাতেমা জাহান সাথী, জোবায়দুল হক রাসেল, ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবর রহমান, শহিদুল হক জীবন, আবদুল মতিনসহ অনেকেই আহত হন। এ সময় বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন।

এ ঘটনায় কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মোসলেমউদ্দিন ২৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলা থানায় রেকর্ড না হওয়ায় তিনি নালিশী আদালত সাতক্ষীরায় মামলাটি করেন। পরবর্তীতে এ মামলা খারিজ হয়ে গেলে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর ফের মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। গত ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে হাবিবসহ ৩৪ জন আসামীকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। বাকি ১৬ আসামী এখনও পলাতক।