অনলাইন ক্লাসে বাড়বে বৈষম্য আরো!

0
13

নিজস্ব প্রতিবেদক : কলেজগুলোতে প্রতিবছর জুলাই মাস থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এবার করোনা পরিস্থিতিতে বদলে গেছে শিক্ষা ক্যালেন্ডার। তিন মাস দেরিতে হলেও আগামীকাল (রোববার) অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে একাধিক কলেজে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিম্নমানের ইন্টারনেট সেবা সর্বোপরি সকল শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোন বা কম্পিউটার না থাকায় এ কার্যক্রমে খুব বেশি সুফল আসবে না বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

এর ফলে সমাজে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী আরো পিছিয়ে পড়বে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইজ) এর প্রধান পরিসংখ্যানবিদ আলমগীর হোসেন বলেন, দেশের কতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস নিতে সক্ষম বা কতজন শিক্ষার্থী স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করেন তার কোন পরিসংখ্যান তাদের হাতে নেই। এবছর দেশের বিভিন্ন কলেজে ১৩ লাখ ৪২ হাজারের বেশি ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন।

আবেদন করেও পছন্দের কলেজ পায়নি ৬৪ হাজার ৯৭২ জন। শহরের সচেতন অভিভাবক এই শিক্ষা কার্যক্রমকে স্বাগত জানালেও কতজন শিক্ষার্থী এভাবে ক্লাস করতে পারবেন তা নিয়ে কলেজ শিক্ষক,অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। মতিঝিল আইডিয়াল কলেজে হাজারের অধিক শিক্ষার্থী চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের মেইল এড্রেস ও মোবাইল নম্বর রেখেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজ অধ্যক্ষ ড. শাহানা আরা বেগম বলেন, আমরা দ্বাদশ শ্রেণীতে অনলাইন ভিডিওর মাধ্যমে ক্লাস চালিয়েছি।

আগামীকাল অনলাইনে অরিয়েন্টেশন ক্লাস নেয়া হবে। তিনি আশা করেন আগামী সপ্তাহ থেকে ফেসবুকে জুম ব্যাবহার করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান পুরোদমে শুরু হবে। অপরদিকে মাগুরা জেলার শ্রীপুর ডিগ্রী কলেজে এবছর ৪০৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহা বলেন, কলেজের ফেসবুক একাউন্টের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসের কথা জানিয়েছি।

কলেজ কর্তৃপক্ষ অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রস্তুত হলেও কতভাগ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবেন তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। শিক্ষাবিদ যতিন সরকার অনলাইন ক্লাস কার্যক্রমকে বৈষম্যের কার্যক্রম বলে উল্লেখ করে বলেন, খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থী এর থেকে উপকৃত হবে। এতে বৈষম্য আরো বাড়বে। প্রকৃত অর্থে এর মাধ্যমে ধনীর সন্তান এগিয়ে যাবে পিছিয়ে পড়বে গরিবের সন্তান। এর ফলে শিক্ষাব্যবস্থায় শুধু নয় সামাজিকভাবেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, কতভাগ শিক্ষার্থীকে এই পাঠদান সুবিধা দিতে পারবো তার কোন ধারণা আমার জানা নেই। তবে করোনার প্রভাবে ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা এই কার্যক্রম নিঃসন্দেহে গতিশীল করবে।