বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ, চলছে পণ্যবাহী নৌ ধর্মঘট

0
17

নিউজ ডেস্ক : সারাদেশে খাদ্য ভাতাসহ ১১ দফা দাবি আদায়ে শুরু হয়েছে পণ্যবাহী নৌ ধর্মঘট। সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌযান-শ্রমিকদের ডাকা এই ধর্মঘট শুরু হচ্ছে।বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের আওতাধীন আটটি সংগঠন এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তবে নৌ শ্রমিকদের সব দাবি এখনই মানা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন নৌযান মালিকরা।

এদিকে অর্নিদিষ্টকালের ধর্মঘট শুরুর পর মোংলা বন্দরে জাহাজে পণ্য ওঠানো-নামানো বন্ধ রয়েছে। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা শাখার সহসাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান বাবুল গণমাধ্যমকে বলেন, ১১ দফা দাবিতে সোমবার রাত ১২টা এক মিনিট থেকে মোংলা বন্দর এলাকায় অর্নিদিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। রাত থেকে দেশের কোথাও পণ্যবাহী নৌযান মোংলা বন্দর এলাকা থেকে ছেড়ে যায়নি বলেও জানান তিনি।

এসময় মোংলা বন্দরে হাজারের বেশি পণ্যবাহী নৌযানে ১৪ থেকে ১৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ১১ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। তবে সোমবার মধ্য রাত থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ধর্মঘটের কারণে বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল এবং ভোগ্যপণ্য লাইটার (ছোট আকারের) জাহাজে ওঠানামা বন্ধ থাকলেও বন্দরের জেটিতে কন্টেইনার জাহাজে পণ্য ওঠানামা অব্যাহত আছে।

সাধারণত বহির্নোঙ্গরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য নিয়ে কর্ণফুলী নদীর ১৬টি ঘাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঘাটে নিয়ে খালাস করে লাইটারেজ জাহাজ। শ্রমিক ফেডারেশনের ১১ দফা দাবিগুলো হলো- বাল্কহেডসহ সব নৌযান ও নৌপথে চাঁদাবাজি-ডাকাতি বন্ধ করা, ২০১৬ সালে ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী নৌযানের সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন প্রদান, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস এবং মালিক কর্তৃক খাদ্যভাতা প্রদান, সব নৌযান শ্রমিকের সমুদ্র ও রাত্রিকালীন ভাতা নির্ধারণ, এনডোর্স, ইনচার্জ, টেকনিক্যাল ভাতা পুনর্নির্ধারণ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ, প্রত্যেক নৌশ্রমিককে মালিক কর্তৃক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান, নদীর নাব্য রক্ষা ও প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন, মাস্টার/ড্রাইভার পরীক্ষা, সনদ বিতরণ ও নবায়ন, বেআইনি নৌচলাচল বন্ধ করা, নৌপরিবহন অধিদপ্তরে সব ধরনের অনিয়ম ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ এবং নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।